দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রাতভর পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনে দুজন এবং রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় এলাকায় দুজন রয়েছেন। দুই পক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরেক শিশু ও এক নারী আহত হয়েছেন। শহরটিতে মোট আটজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ।
নভোরোসিস্কে হামলায় কয়েক ডজন ভবন ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শহরের শস্য টার্মিনালও। এ ছাড়া রাশিয়ার ভলনা গ্রামের একটি বাড়ির বাগানে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নভোরোসিস্কে রুশ নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে জেটচালিত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন নৌযান ব্যবহার করেছে ইউক্রেনের বাহিনী। হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা অবস্থান, জেটি ও বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর মোট ৫০২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের খেরসনে রাশিয়ার শাহেদ ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন বয়স্ক নারী রয়েছেন বলে আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেকসান্দর প্রকুদিন জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ হামলায় একটি বিপণিবিতানে আগুন ধরে যায়। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেশটির বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর ওদেসাতেও রুশ হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ওদেসা বন্দরে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরবরাহে ব্যবহৃত একটি জ্বালানি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের ভোদিয়ানে গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে মস্কো।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের খাদ্য, কৃষি ও গুদাম অবকাঠামোয় রাশিয়ার হামলা বেড়েছে। এর বিপরীতে কিয়েভ রাশিয়ার জ্বালানি, বন্দর ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন আলোচকদের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে কিয়েভ। তবে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর থেকে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ইউক্রেন বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়া বলছে, সমাধানের জন্য মস্কোর দাবি অনুযায়ী ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের কথিত ‘মূল কারণ’ সমাধান করতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/